পর্যটক কমাতে বার্সেলোনায় বন্ধ হচ্ছে দুই ক্রুজ টার্মিনাল

অতিরিক্ত পর্যটন সমস্যা মোকাবেলায় স্পেনের বার্সেলোনা বন্দরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দুটি ক্রুজশিপ টার্মিনাল।

অতিরিক্ত পর্যটন সমস্যা মোকাবেলায় স্পেনের বার্সেলোনা বন্দরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দুটি ক্রুজশিপ টার্মিনাল। বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিলের বিবৃতি অনুসারে, আগামী বছর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চালু টার্মিনালের সংখ্যা দাঁড়াবে পাঁচে। বন্দর ও সিটি কাউন্সিলের মধ্যে এক চুক্তির ভিত্তিতে পদক্ষেপটি নেয়া হচ্ছে। চুক্তির অংশ হিসেবে বন্দরের অবকাঠামো আধুনিকায়নের পাশাপাশি ক্রুজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরো টেকসই হবে। যেমন ডকে অবস্থানকালে গ্রিন অনশোর বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করবে জাহাজগুলো। ফলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা যাবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমবে। গত বছরে ৬ জুলাই বার্সেলোনায় অতিরিক্ত পর্যটনবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় তিন হাজার মানুষ অংশ নেন। তাদের স্লোগান ছিল ‘যথেষ্ট হয়েছে, এবার পর্যটনের সীমা টানুন’। আন্দোলনকারীরা বলেন, শ্রম, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্পের বিপুল নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বহুল আলোচিত ওই বিক্ষোভে পর্যটকদের দিকে পানির পিস্তল ছুড়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো হয়। পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বার্সেলোনার জনপ্রিয়তা বাসিন্দাদের জন্য বিড়ম্বনা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভিড়, জনজট ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট। কারণ শহরটিতে এখন অনেক অ্যাপার্টমেন্ট স্বল্পমেয়াদি পর্যটকদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। ২০২৪ সালে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্রুজ বন্দর হিসেবে পরিচিত বার্সেলোনা বন্দর ১৬ লাখ ট্রানজিট যাত্রী সামলেছে। বার্সেলোনা ট্যুরিজম কনসোর্টিয়ামের তথ্যানুযায়ী, এসব যাত্রীর বেশির ভাগই সকালে জাহাজ থেকে নামেন। এরপর সারাদিন ঘুরে বিকালে ফিরতি পথে যাত্রা করেন। ফলে লা রাম্বলা রোডসহ শহরের প্রাচীন গথিক কোয়ার্টারের মতো এলাকায় জনজট বাড়ে, যা স্থানীয়দের ক্ষোভ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে পূর্ববর্তী একটি চুক্তির অধীনে একটি ক্রুজ টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায় বার্সেলোনায়। এর উদ্দেশ্য ছিল পর্যটন জাহাজকে শহর থেকে আরো দূরে রাখা। এছাড়া ‘মারেম্যাগনাম’ নামের আরেকটি ক্রুজ টার্মিনাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যেখানে এখন রয়েছে রেস্তোরাঁ, বার, বোট ক্লাব ও মেরিনা, অ্যাকুয়ারিয়াম এবং শপিং মল। খবর সিএনএন

আরও